স্টাফ রিপোর্টার :সাইফুল ইসলাম তুহিন
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ার মোহাম্মদপুর… যেখানে অনেক পরিবারের কাছে ঈদ মানেই নতুন পোশাক নয়, আনন্দ নয়—বরং ছিল দুশ্চিন্তা, না-পাওয়া আর নীরব কষ্টের আরেকটি দিন। সেই নীরব কষ্টের মাঝেই এবার যেন আলোর মতো এসে দাঁড়ালো হাজী নূর মিয়া ফাউন্ডেশন।
রবিবার (১৬ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৩টায় জাহাজমারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে প্রায় ৫০-৬০টি অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। ছোট্ট এই আয়োজন হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে ছিল অনেক বড় একটি মানবিক স্পর্শ—একটু ভালোবাসা, একটু সহানুভূতি, আর একটুখানি হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
উপহার হিসেবে দেওয়া হয় ঈদের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী—চিনি, সাগু, কিসমিস, লুডলুস, সুজি, সেমাই, দুধসহ মোট ৯ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। প্রতিটি প্যাকেট যেন শুধু খাবার নয়, বরং ছিল একেকটি পরিবারের জন্য ঈদের আনন্দ ফিরে পাওয়ার প্রতিশ্রুতি।
উপহার হাতে পেয়ে অনেকের চোখে জল, আবার সেই জলেই ছিল তৃপ্তির ঝিলিক। এক বৃদ্ধ কাঁপা কণ্ঠে বলেন,
“আমাদের ঘরে ঈদ আসে না… শুধু দিন পার হয়। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, আমরাও ঈদ করতে পারবো… এইটুকুই অনেক বড় পাওয়া…”
সুফিয়া বেগম বলেন,
স্বামী অসুস্থ, ঘরে আয় নেই… বাচ্চাদের কীভাবে ঈদ করাবো বুঝতে পারছিলাম না। আজ এই উপহার পেয়ে মনে হচ্ছে, ওদের মুখে অন্তত একটা হাসি দেখতে পারবো…”
কামাল উদ্দিন বলেন,
“আমাদের কথা কেউ মনে রাখে না… কিন্তু আজ মনে হচ্ছে এখনও মানুষের ভেতর মানবতা বেঁচে আছে…”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মেম্বার পদপ্রার্থী আরিফ উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন,
“এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সাহায্য নয়, এটি সমাজে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়। সবাই যদি নিজের অবস্থান থেকে একটু করে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।”
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,
“আমাদের লক্ষ্য একটাই—ঈদের দিনে যেন কোনো মানুষ অভুক্ত না থাকে। আমরা চাই, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটুক। ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা থাকবে।”
হাজী নূর মিয়া ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন প্রমাণ করে—সামান্য উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। হয়তো এই উপহার খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু যাদের ঘরে কিছুই ছিল না, তাদের কাছে এটি এক টুকরো ঈদের আনন্দ, একফোঁটা সুখের অশ্রু।
কারণ, ঈদের আসল সৌন্দর্য নতুন পোশাকে নয়-
ঈদের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে একে অপরের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই।
Leave a Reply