পটুয়াখালীর বাউফল (পটুয়াখালী-২) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে তিনি থানার ওসি এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরকে সেখান থেকে বদলি করেছেন।
ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মজিবর রহমানের (বাচ্চু) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও এই সংসদ সদস্য।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে শফিকুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, তিনি কেবল ভোটে নয়, ক্ষমতার জোরেও এমপি হয়েছেন। তাকে যেন কেউ ক্ষমতা দেখাতে না আসে, সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় সন্ত্রাসীদের কাছে খোঁজ নিলেই তার সম্পর্কে জানা যাবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, উল্টাপাল্টা কথা বলে মাথা গরম করলে কেউ পরিস্থিতি সামলাতে পারবে না। একই বক্তব্যে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের পতনের কারণ হিসেবে জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকাকে দায়ী করেন। তিনি মন্তব্য করেন, কেবল রাস্তাঘাট বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে মানুষের মন জয় করা ও টিকে থাকা সম্ভব নয়।
এদিকে, সোমবার (১ জুন) দুপুরে এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রয়াত পিতা, শ্বশুর ও স্ত্রীকে নিয়ে মিথ্যা এবং অশালীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। মূলত অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্য করেই তিনি এই কথাগুলো বলেছেন। তবে পুরো বক্তব্যে তিনি অনেক ইতিবাচক কথাও বলেছেন, যা সমানভাবে প্রচার হওয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেন।
Leave a Reply