সাইফুল ইসলাম তুহিন
স্টাফ রিপোর্টার
কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রেস রিলিজ প্রকাশ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-এর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদের ব্যানারে দেশের বিভিন্ন কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সম্প্রতি আন্দোলন, লকডাউন ও শিক্ষা কার্যক্রম বহির্ভূত কর্মসূচি পালিত হওয়ায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে—যা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ)-এর সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদের তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
সভায় ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য ও সঙ্গত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। বিশেষ করে অষ্টম পর্বে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঠ সংযুক্তি ভাতা প্রদানের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দেন—অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় পত্র প্রেরণ করা হলে তারা সব ধরনের আন্দোলন ও কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন।
সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মাঠ সংযুক্তি ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অন্যান্য ন্যায্য দাবিসমূহও কৃষি মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনায় আছে। যেসব দাবি আন্তঃমন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট, সেগুলো ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণের পরও কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং পর্যাপ্ত তথ্য না জেনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এমনকি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কোনো কোনো কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশাসনিক, শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার অপচেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছে—সব ধরনের আন্দোলন পরিহার করে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে নির্ধারিত পর্ব সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষা বর্জনের মতো সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং কর্মজীবনে প্রবেশ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রেস রিলিজে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়াসমূহ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাই বাস্তবতার নিরিখে সকল শিক্ষার্থীর উচিত শিক্ষা কার্যক্রমের মূলধারায় ফিরে আসা। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও দেশের কৃষি শিক্ষার স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
Leave a Reply