1. imomhossain23@gmail.com : news24banglaonline :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন

গোপনীয় টেন্ডারে নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দিনভর অবরুদ্ধ

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২২৬ বার ভিউ

নোয়াখালী প্রতিনিধ:

নোয়াখালীতে দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করে কয়েক কোটি টাকার নিমার্ণ সামগ্রী নামমাত্র মূল্যে গোপণীয় দরপত্র আহবানের অভিযোগে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১ টা হতে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত নোয়াখালী জনস্বাস্থ্যের সাধারণ ঠিকাদার কর্তৃক তাকে অবরুদ্ধ থাকতে দেখা গেছে। অবরুদ্ধ থাকাকালে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারেরা নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নির্বাহী প্রকৌশলী অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

এ সময় জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ে অবস্থান করা ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, ডানিডার একটি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন নিমার্ণ সামগ্রী জনস্বাস্থ্যের নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গুদামে সংরক্ষিত ছিল। তিনি এসব সামগ্রীর বিক্রয়ের দরপত্র অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহবানের নামে নামখাওয়াস্ত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। যাতে কোন ঠিকাদাররা অবহিত না থাকায় তারা এ প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি। এ সুযোগে তিনি এ দপ্তরের আরেক ঠিকাদার ফ্যসিবাদের দোসর মেসার্স শাহনাজদের কাছে ঐসব নিমার্ণ সামগ্রী পানির দরে বিক্রয় করে দেন।

সূত্র জানায়, মেসার্স শাহনাজ রাতারাতি এসব সামগ্রী গুদাম থেকে উধাও করে চরবাটা ও চর আমান উল্লায় সংরক্ষণ করেন। এ নিয়ে জেলার সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে জানাজানি হলে ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। একপর্যায়ে, তারা এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে এ দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে নির্বাহীকে নিজ কার্যালয়ে বেলা ১১ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের লোভ-লালসা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নের একটি প্রকল্পের জন্যে বরাদ্ধকৃত ৯০ কোটি টাকা ঢাকায় ফেরত যায়। যাতে উন্নয়ন বঞ্চিত হয় নোয়াখালীর সুবিধা বঞ্চিত মানুষ।

এছাড়াও, অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারদের থেকে মোটা অংকের কমিশন না পাওয়ায় এ দপ্তরের অনেকগুলো দরপত্রের কার্যাদেশ যথাসময়ে দিচ্ছেননা তিনি। ফলে সেসব কাজের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া যায়, যে সব ঠিকাদার মোটা অংকের কমিশন দিয়ে কাজের মধ্যস্থতা করছেন তারা কোন রকম দায়সারাগোছের কাজ করছেন। যাতে কোন ধরনের মান রক্ষা হচ্ছেনা বলে জানা গেছে।

এসকল বিষয়ে জানতে চাইলে অবরুদ্ধ থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, গুদামের মালামাল তিনি নিলাম দেননি। নিলাম প্রক্রিয়াটি ঢাকা থেকে করা হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিলের করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com