1. imomhossain23@gmail.com : news24banglaonline :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

গর্তে থমকে জীবন, ধুলায় ঢেকে স্বপ্ন: হাতিয়ার জাহাজমারা ০৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের আর্তনাদ

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৫২ বার ভিউ

প্রতিবেদক : সাইফুল ইসলাম তুহিন

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়ন-এর ০৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর থেকে ম্যাকপ্যাশ্বান হয়ে জাহাজমারা পর্যন্ত প্রধান সড়কটি আজ আর শুধু একটি রাস্তা নয়—এটি যেন হাজারো মানুষের দীর্ঘশ্বাস, কান্না আর প্রতিদিনের সংগ্রামের আরেক নাম।
বড় বড় গর্তে ভরা, খানাখন্দে ছিন্নভিন্ন, ধুলাবালিতে ঢেকে থাকা এই সড়ক দিয়ে চলাচল মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে ভরে অদৃশ্য ফাঁদে পরিণত হবে, আর রোদ উঠলে ধুলোর ঝড়ে চোখ খোলা দায়। ছোট ছোট শিশুরা স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে যখন এই পথে হাঁটে, তখন তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যায়।
জরুরি মুহূর্তে থেমে যায় মানবতা
সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায় যখন কোনো অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে হয়। ভাঙা রাস্তার কারণে অনেক সময় গাড়ি পাওয়া যায় না। চালকেরা ভয় পান—ঝাঁকুনিতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হবে। এমনকি গর্ভবতী নারীকেও নিতে অস্বীকৃতি জানান কেউ কেউ।

গর্ভবতী রুগীর স্বজন বিলকিস বেগম বলেন,
“প্রসব ব্যথা উঠলে আমরা আল্লাহর নাম নিয়ে বসে থাকি। গাড়ি আসবে কি না, মাঝপথে কিছু হবে কি না—এই ভয় নিয়েই সময় পার করি।”
একটি রাস্তার অব্যবস্থাপনা যখন জীবনের সঙ্গে লড়াইয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটি শুধু উন্নয়নহীনতা নয়—এটি মানবিক সংকট।

মোহাম্মদপুর থেকে বাস স্টেশন পর্যন্ত রয়েছে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি উচ্চ বিদ্যালয়। চরইশ্বর রায় আফাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২য় ক্যাম্পাস নামে পরিচিত। প্রতিদিন শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী এই মৃত্যুফাঁদ সড়ক পেরিয়ে স্কুলে যায়।

শিক্ষার্থী রাজিব উদ্দিন বলেন,
“আমরা পড়াশোনা করে বড় হতে চাই। কিন্তু স্কুলে যেতে গিয়েই যদি দুর্ঘটনায় পড়ি, তাহলে স্বপ্ন দেখব কীভাবে?”
অনেক সময় সাইকেল উল্টে পড়ে যায়, অটোরিকশা হঠাৎ গর্তে ঢুকে দুর্ঘটনা ঘটে। অভিভাবকদের বুক কাঁপে—সন্তান নিরাপদে বাড়ি ফিরবে তো?

যানবাহনের অনীহা, বাড়ছে দুর্ভোগ-মোহাম্মদপুরে এখন মালবাহী ট্রাক, নসিমন, সিএনজি—অনেক যানবাহনই আসতে চায় না। যারা আসে, তারা দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া নেয়। কারণ একটাই—এই রাস্তায় চলা মানেই গাড়ির ক্ষতি, গুণতে হয় প্রতিদিন মেরামতের খরচ।

অটোরিকশা চালক জাহেদ বলেন,
“ভাই, আমরা ঝুঁকি নিয়ে আসি। গাড়ির চাকা ভাঙে, স্প্রিং নষ্ট হয়। তাই বেশি ভাড়া নিতে বাধ্য হই। রাস্তা ঠিক হলে আমরাও স্বাভাবিক ভাড়ায় চলতে পারবো।

ব্যবসায়ী মিরাজ উদ্দিন বলেন ,
রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে গাড়ি আসতে চাইনা, যে গাড়ি একবার আসে, দ্বিতীয় বার আর আসতে চাইনা।আসলেও দিতে হয় দ্বীগুণ ভাড়া।
পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্য আনতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। সেই বাড়তি খরচ যোগ হচ্ছে পণ্যের দামে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

তারা আরও বলেন,
এই ভাঙা রাস্তা আমাদের ব্যবসা ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাল আনতে দ্বিগুণ ভাড়া, বিক্রি কমে যাচ্ছে। আমরা আর কত সহ্য করব?”

দিনমজুর নিজাম উদ্দিন বলেন,
“সারাদিন রোদে কাজ করে যা আয় করি, বাজারে গিয়ে দেখি সব জিনিসের দাম বেশি। রাস্তার জন্য যদি সবকিছুর দাম বাড়ে, তাহলে আমরা বাঁচব কীভাবে.?

প্রশ্ন এখন একটাই
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ কি পারবেন এই দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করতে? পারবেন কি অসুস্থ রোগীর জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পথ ফিরিয়ে দিতে, ব্যবসায়ী ও দিনমজুরের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটাতে?
নাকি এই মানুষগুলোকে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে?
জাহাজমারা ০৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ আজ আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা চায় কাজের দৃশ্যমান শুরু। চায় নিরাপদ একটি রাস্তা, যেখানে শিশুরা নিশ্চিন্তে হাঁটবে, রোগী দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাবে, ব্যবসায়ী লোকসান গুনবে না, দিনমজুরের মুখে থাকবে তৃপ্তির হাসি।
কারণ একটি রাস্তা শুধু ইট-পাথরের নয়—এটি একটি জনপদের জীবনরেখা, স্বপ্নের সেতু, বেঁচে থাকার অধিকার।

১০নং জাহাজমারা ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল খায়ের জানান, এই রাস্তা দীর্ঘদিন যাবত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। এই রাস্তার বরাদ্দ হয়েছে কিনা আমার জানা নাই।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com