গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের লোকজনকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
তারা এক নারীকে মারধর করছেন এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই হামলায় ৩ নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায়, রোববার (৩১ মে) ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (২নং সিএন্ডবি) মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে লুটপাট ও হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম হামলা ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন- বেড়াইদেরচালা এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী সমলা খাতুন (৯৫), মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), আতিকুলের স্ত্রী মাসুদা আক্তার (৪২), তার মেয়ে বিথী আক্তার (২৫)। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডেকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অন্যান্যদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার পর রোববার (৩১ মে) বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনেরা।
আসামিরা হলেন- একই এলাকার হাবিবুল্লাহ (৪৮), তার ভাই সুলতান উদ্দিন (৫০), ফয়সাল (৩০), ফাহাদ (২৮) নুজবেল (২৫), আমিনুল (২৮), হেলাল (৩৮), রাজিব (৩৫), শহিদুল (৪৫) এবং আমানত (২৫)। ঘটনার পর থেকে আসামীরা বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান আসামি হাবিবুল্লাহ নিষিদ্ধ সংগঠন শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।
মামলার বাদী তাইজুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, শ্রীপুর ৭নং কেওয়া মৌজাস্থিত এস.এ খতিয়ান ৫৯৭, এস.এ দাগ নং- ৯৪৬, আর.এস নং ৬২৩০, ৬২৩১ দাগে তপসিল মোট ৫৬ শতাংশ জমি পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছে। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জবর দখল করার চেষ্টা করে আসছে। পরে সিনিয়র সহকারী ২য় আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে দে: মো: নং- ২৮/২০২৫ দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তপসিলভুক্ত জমিতে আসামিদেরকে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আসামিরা আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা করে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০ টার দিকে আমার ভোগদখলীয় জমি থেকে কাঁঠাল পাড়ার জন্য গেলে আসামিরা আমাকে কাঁঠাল পড়তে বাধা এবং হুমকি দেয়। আধাঘন্টা পর সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা দা, লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির পাশে থাকে আমার ছোট ভাই আতিকুলের বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রী মাসুদা, আমার ভাতিজি বিথি, আমার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও আমার বৃদ্দা মা সমলা খাতুনকে বাড়ির উঠানে ফেলে মারধর করে। তাদের চিৎকার শুনে আমার স্ত্রী রেহেনা আক্তার এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে আহত করে।
এ সময় আসামী ফাহাদ স্ত্রী রেহেনা আক্তারের গলা থেকে ১ ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন (২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্য) লুটে নিয়ে যায়। আসামি আমিনুল স্ত্রীর পড়নের কাপড় টেনে হেঁচড়ে অর্ধবিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানী করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আসামিরা পালিয়ে থাকায় এবং তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে রোববার (৩১ মে) ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
Leave a Reply